Wednesday, September 7, 2016

বাজার দর ।। আল ফারুক


সূূর্য অস্তে, নিশা গমনেই
নতুন দিনের আনন্দ নিঃশেষ
গত দিনের দুঃখ কাটল-
হাহাকার শতাব্দী!
যেমনই কাটুক; সব মিলে সুন্দর বেশ।
বাড়ছে মানুষ-
দিনে দিনে, ক্ষণে ক্ষণে অবিরত
কখনো নেই’ক রেশ।
রাত ভর সুখের স্বপ্ন দেখা
একটু আয়েশ একটু নেশা
সব মিলে এক নতুন মুখের
ভাবনা ভেবেই শেষ।
নতুন দিনের আনন্দ কি
যেদিকে তাকাই দুঃখ দেখি
নবীন বরণ হয় না ফুলে
হয় কেবলি মনের ভুলে
হয়না গভীর ভালবাসা
পূর্ণ না হয় মনের আশা
দূর্ভাবনার ক্লেশ।
গড়ছে সময় বাড়ছে বাজার
দুশ্চিন্তা হাজার হাজার
কাটছে না দিন
বাড়ছে যে ঋণ
বাড়ছে সুদ আর, হায় না কাবাড়
আজ যে যা দশ,
কালকে তা বিশ
ক্ষণিক পরেই লুটবে বিবেক-
বলবে মানুষ, হায়রে জীবন ভিক্ষানবীশ।
জানুয়ারি, ২০০৫

হাসি ।। আল ফারুক


হাসলে অনেক, আর হেস না
কাঁদতে শিখ আজ
হয়তো ক্ষণিক পরেই তোমার
হাসতে হবে লাজ।
হাসছ কেন, হাসবে কেন?
অন্তরে কি সুখ?
এইতো একটু পরেই তোমার
ভাংবে হাসির বুক।
শুষ্ক নয়ন হবে নদী
অকারণে হাসবে যদি
কষ্ট পাবে বুঝলে সে ভুল
পাবে তখন সুখের কি কুল!
একটু ধীরে, একটু বুঝে
জীবনটাকে সামলে নাও
কষ্ট করে দুঃখ হলেও
আনন্দটা মর্গে দাও।
কষ্ট করে একটু কেঁদে
মনটাকে আজ নাও বেঁধে
দুঃখ না থাক, পরের দুঃখে
মনটা তোমার নাও ছেঁদে।
এইটুকুতে লাভ না থাকুক
হয়তো ক্ষতি হবে না
স্বচ্ছ একটা জীবন পাবে
যন্ত্রনাটা রবে না।
জানুয়ারি, ২০০৫

আনন্দ ।। আল ফারুক


আনন্দটা ক্ষণিক মেলা
উষ্ণ দুপুর বেলা-
ঘাম ঝরা সেই অনল তাপে
খন্ড মেঘের ভেলা।
হয়তো হবে পথের ধারের
সদ্য ফোটা ফুল-
প্রভাত বেলায় জন্ম নিলেই
মৃত্যু জড়ায় কুল।
তার চেয়ে ভাল উল্কা ঝরা
ঝরেই যা নিঃশেষ-
আনন্দটা তারচে ক্ষণিক
নেই’ক রে তার বেশ।
জানবে না তার যাওয়া আসা
বাড়বে কেবল ঋণ
দুঃখটা তাই জয় কর ভাই
কাটবে সুখেই দিন।
জুলাই, ২০০৫

কবর ।। আল ফারুক


হায়রে গহীন কবর
এই কবরে হারাইলে আর পায় না কেহ খবর।
এই কবরের আঁধার তরে
আসবে কি কেউ দেখতে মোরে?
থাকব কোথায় অন্ধকারে
ভাবতে লাগে ভয়।
জীবনটারে ফুর্তিভরে
কাটিয়ে দিলাম অকাতরে-
বিলিয়ে দিলাম রঙ্গভরে
সবটুকু যার ক্ষয়।
হায়রে কবর, গহীন কবর
তোমায় দেখি শান্ত বিভোর
শব্দহীন এক চঞ্চলতা
রাখছ ধরে যতন করে-
বুকের ভিতর।
আসব তোমার অন্ধকারে
একটু পরেই; সময় হলে-
জনম ধরে গোপন করে
রাখতে মোরে তোমার তরে।
কেমন করে তোমার বুকে
অস্থি হবে লয়?
কেমন যেন অস্থিরতা
ভাবতে লাগে ভয়।
মার্চ, ২০০৫

জীবনের হিসেব ।। আল ফারুক


আজকে আমার হিসেব হল কিছু
হেলায় হেলায় যেটুক আমি
করব বলেও করিনি
সেটুকুতেই আজকে আমি পিছু।
আজকে আবার মনকে আমার
প্রশ্ন করি; একশত বার।
যেটুক ভেবে লাগায় নি গা
অলস যেথায় দুখানি পা
সেথায় আমার জানার ছিল কিছু।
ভাববো বলে যারে নিয়ে হয়নি ভাবা কিছু
সেটুকুতেই আজকে আমি পিছু।
যেথায় বসে গল্প হয়েছে বলা
শান্ত দিনে সঙ্গী নিয়ে চলা
শুষ্ক মুখে ভ্রান্ত পথিক বলতে চেয়েছে কিছু-
জানতে গিয়ে হয়নি জানা
মান যাবে তাই মনের মানা
নির্জীব এ প্রাণ দেয়নি সাড়া
গর্ব করে তুচ্ছ ভরে-
হৃদয় যেথায় আত্মহারা।
সেথায় আমার জানার হল কিছু।
সেটুকুতেই আজকে আমি পিছু।
যে পথ বেয়ে চলতে গিয়ে
নিজেকে করেছি হেলা
বুঝিনি সেদিন রত্ন নিয়ে
হেলায় করেছি খেলা।
অযত্নে যার হয়নি করা
ধরতে গিয়েও হয়নি ধরা
যেটুকুতে ধরার ছিল কিছু।
সেটুকুতেই আজকে আমি পিছু।
আগস্ট, ২০০৬

একুশের কথা ।। আল ফারুক


একুশ আমার মায়ের ভাষা
মায়ের মুখের বুলি।
একুশ আমার বোনের আদর
বাবার চরণ ধুলি।
একুশ আমার স্বপ্ন এবং
জীবন গড়ার পণ।
একুশ আমার জীবন তরে
সবুজ ঘেরা বন।
একুশ আমার শহীদ ভায়ের
রক্তে ভেজা শার্ট।
একুশ হল বাংলা মায়ের
শ্বাশ্বত এক আর্ট।
একুশ হল অবোধ শিশুর
বাঁঁধন হারা হাসি।
একুশ কোন বৃদ্ধ দাদুর
কষ্টে ঝরা কাশি।
একুশ অনেক বোবা লোকের
অবাক কাহিনী
একুশ তাদের জীবন জয়ের
বেবাক দায়িনী।
একুশ প্রেমিক মনের খেলা
মাতৃভাষার জন্য।
একুশ তোমার মহৎ দানে
আমরা সবাই ধন্য।
ফেব্র“য়ারি, ২০০৮

সবাই যেমন ।। আল ফারুক


সবাই যেমন পায়না সবি
চাইলে একক জীবনে
হয়না তেমন পূর্ণ আশা
অনেক চাওয়া পূরণে।
সবার কথা সবখানিতে
নেয় না মেনে সকলে
একই জিনিস সকল সময়
হয়না সবার দখলে।
সবার দানে সকল লোকে
হয়কি কেবল তুষ্ট?
একই কাজে সবার কাছে
হয়না সবাই দুষ্ট।
সবার চলা হয়না সঠিক
একই পথে চলিলে
একই কথা সকল স্থানে
পায় কী শোভা বলিলে?
সব সময়ে সবার কথাই
পায়না সবাই কষ্ট
সব ফুলেরি অকাল ঝরা
হয় কী রে ভাই নষ্ট।
সকল কাজই সকল সময়
পায় না সমান মূল্য
একই লোকের সকল কাজই
হয় কী রে ভাই তুল্য?
সকল লোকই সবার কাছে
প্রিয় যেমন হয় না।
কারুর কারুর মহৎ সেবাও
ইতিহাসে রয় না
সকল দিনের সূর্য যেমন
উত্তাপ নয় সমান রে
তাইতো একেক জীবন নদীর
নীরব ধারা এমন রে।
সব তারারি জীবন ধারা
সমান সময় মাপেনা
তেমনি করে অনেক ফুলের
সুবাস বিলান চলে না।
সব যুগেরি স্বার্থকতা
নয়’ক সমান বলিলে-
একই জীবন সকল সময়
ব্যর্থ হয়না তলিলে।
সব চাঁদই কি আনতে পারে
সমান করে আনন্দ?
সবার কাছে একই ভুলে
হয়কি সমান দন্ড।
সব ফুলেরি জন্ম কেবল
দেবতাকে পূজা নয়
তেমনি করে অনেক জীবন
তমাসাতে হারিয়ে যায়
সব জলই কি মিটায় তিষ্টা
চাইলে করুণ সময়ে
অনেক পেয় পান করাতে
ব্যস্ত জীবন হরণে।
অগাস্ট, ২০০৬