Wednesday, September 7, 2016

বাজার দর ।। আল ফারুক


সূূর্য অস্তে, নিশা গমনেই
নতুন দিনের আনন্দ নিঃশেষ
গত দিনের দুঃখ কাটল-
হাহাকার শতাব্দী!
যেমনই কাটুক; সব মিলে সুন্দর বেশ।
বাড়ছে মানুষ-
দিনে দিনে, ক্ষণে ক্ষণে অবিরত
কখনো নেই’ক রেশ।
রাত ভর সুখের স্বপ্ন দেখা
একটু আয়েশ একটু নেশা
সব মিলে এক নতুন মুখের
ভাবনা ভেবেই শেষ।
নতুন দিনের আনন্দ কি
যেদিকে তাকাই দুঃখ দেখি
নবীন বরণ হয় না ফুলে
হয় কেবলি মনের ভুলে
হয়না গভীর ভালবাসা
পূর্ণ না হয় মনের আশা
দূর্ভাবনার ক্লেশ।
গড়ছে সময় বাড়ছে বাজার
দুশ্চিন্তা হাজার হাজার
কাটছে না দিন
বাড়ছে যে ঋণ
বাড়ছে সুদ আর, হায় না কাবাড়
আজ যে যা দশ,
কালকে তা বিশ
ক্ষণিক পরেই লুটবে বিবেক-
বলবে মানুষ, হায়রে জীবন ভিক্ষানবীশ।
জানুয়ারি, ২০০৫

হাসি ।। আল ফারুক


হাসলে অনেক, আর হেস না
কাঁদতে শিখ আজ
হয়তো ক্ষণিক পরেই তোমার
হাসতে হবে লাজ।
হাসছ কেন, হাসবে কেন?
অন্তরে কি সুখ?
এইতো একটু পরেই তোমার
ভাংবে হাসির বুক।
শুষ্ক নয়ন হবে নদী
অকারণে হাসবে যদি
কষ্ট পাবে বুঝলে সে ভুল
পাবে তখন সুখের কি কুল!
একটু ধীরে, একটু বুঝে
জীবনটাকে সামলে নাও
কষ্ট করে দুঃখ হলেও
আনন্দটা মর্গে দাও।
কষ্ট করে একটু কেঁদে
মনটাকে আজ নাও বেঁধে
দুঃখ না থাক, পরের দুঃখে
মনটা তোমার নাও ছেঁদে।
এইটুকুতে লাভ না থাকুক
হয়তো ক্ষতি হবে না
স্বচ্ছ একটা জীবন পাবে
যন্ত্রনাটা রবে না।
জানুয়ারি, ২০০৫

আনন্দ ।। আল ফারুক


আনন্দটা ক্ষণিক মেলা
উষ্ণ দুপুর বেলা-
ঘাম ঝরা সেই অনল তাপে
খন্ড মেঘের ভেলা।
হয়তো হবে পথের ধারের
সদ্য ফোটা ফুল-
প্রভাত বেলায় জন্ম নিলেই
মৃত্যু জড়ায় কুল।
তার চেয়ে ভাল উল্কা ঝরা
ঝরেই যা নিঃশেষ-
আনন্দটা তারচে ক্ষণিক
নেই’ক রে তার বেশ।
জানবে না তার যাওয়া আসা
বাড়বে কেবল ঋণ
দুঃখটা তাই জয় কর ভাই
কাটবে সুখেই দিন।
জুলাই, ২০০৫

কবর ।। আল ফারুক


হায়রে গহীন কবর
এই কবরে হারাইলে আর পায় না কেহ খবর।
এই কবরের আঁধার তরে
আসবে কি কেউ দেখতে মোরে?
থাকব কোথায় অন্ধকারে
ভাবতে লাগে ভয়।
জীবনটারে ফুর্তিভরে
কাটিয়ে দিলাম অকাতরে-
বিলিয়ে দিলাম রঙ্গভরে
সবটুকু যার ক্ষয়।
হায়রে কবর, গহীন কবর
তোমায় দেখি শান্ত বিভোর
শব্দহীন এক চঞ্চলতা
রাখছ ধরে যতন করে-
বুকের ভিতর।
আসব তোমার অন্ধকারে
একটু পরেই; সময় হলে-
জনম ধরে গোপন করে
রাখতে মোরে তোমার তরে।
কেমন করে তোমার বুকে
অস্থি হবে লয়?
কেমন যেন অস্থিরতা
ভাবতে লাগে ভয়।
মার্চ, ২০০৫

জীবনের হিসেব ।। আল ফারুক


আজকে আমার হিসেব হল কিছু
হেলায় হেলায় যেটুক আমি
করব বলেও করিনি
সেটুকুতেই আজকে আমি পিছু।
আজকে আবার মনকে আমার
প্রশ্ন করি; একশত বার।
যেটুক ভেবে লাগায় নি গা
অলস যেথায় দুখানি পা
সেথায় আমার জানার ছিল কিছু।
ভাববো বলে যারে নিয়ে হয়নি ভাবা কিছু
সেটুকুতেই আজকে আমি পিছু।
যেথায় বসে গল্প হয়েছে বলা
শান্ত দিনে সঙ্গী নিয়ে চলা
শুষ্ক মুখে ভ্রান্ত পথিক বলতে চেয়েছে কিছু-
জানতে গিয়ে হয়নি জানা
মান যাবে তাই মনের মানা
নির্জীব এ প্রাণ দেয়নি সাড়া
গর্ব করে তুচ্ছ ভরে-
হৃদয় যেথায় আত্মহারা।
সেথায় আমার জানার হল কিছু।
সেটুকুতেই আজকে আমি পিছু।
যে পথ বেয়ে চলতে গিয়ে
নিজেকে করেছি হেলা
বুঝিনি সেদিন রত্ন নিয়ে
হেলায় করেছি খেলা।
অযত্নে যার হয়নি করা
ধরতে গিয়েও হয়নি ধরা
যেটুকুতে ধরার ছিল কিছু।
সেটুকুতেই আজকে আমি পিছু।
আগস্ট, ২০০৬

একুশের কথা ।। আল ফারুক


একুশ আমার মায়ের ভাষা
মায়ের মুখের বুলি।
একুশ আমার বোনের আদর
বাবার চরণ ধুলি।
একুশ আমার স্বপ্ন এবং
জীবন গড়ার পণ।
একুশ আমার জীবন তরে
সবুজ ঘেরা বন।
একুশ আমার শহীদ ভায়ের
রক্তে ভেজা শার্ট।
একুশ হল বাংলা মায়ের
শ্বাশ্বত এক আর্ট।
একুশ হল অবোধ শিশুর
বাঁঁধন হারা হাসি।
একুশ কোন বৃদ্ধ দাদুর
কষ্টে ঝরা কাশি।
একুশ অনেক বোবা লোকের
অবাক কাহিনী
একুশ তাদের জীবন জয়ের
বেবাক দায়িনী।
একুশ প্রেমিক মনের খেলা
মাতৃভাষার জন্য।
একুশ তোমার মহৎ দানে
আমরা সবাই ধন্য।
ফেব্র“য়ারি, ২০০৮

সবাই যেমন ।। আল ফারুক


সবাই যেমন পায়না সবি
চাইলে একক জীবনে
হয়না তেমন পূর্ণ আশা
অনেক চাওয়া পূরণে।
সবার কথা সবখানিতে
নেয় না মেনে সকলে
একই জিনিস সকল সময়
হয়না সবার দখলে।
সবার দানে সকল লোকে
হয়কি কেবল তুষ্ট?
একই কাজে সবার কাছে
হয়না সবাই দুষ্ট।
সবার চলা হয়না সঠিক
একই পথে চলিলে
একই কথা সকল স্থানে
পায় কী শোভা বলিলে?
সব সময়ে সবার কথাই
পায়না সবাই কষ্ট
সব ফুলেরি অকাল ঝরা
হয় কী রে ভাই নষ্ট।
সকল কাজই সকল সময়
পায় না সমান মূল্য
একই লোকের সকল কাজই
হয় কী রে ভাই তুল্য?
সকল লোকই সবার কাছে
প্রিয় যেমন হয় না।
কারুর কারুর মহৎ সেবাও
ইতিহাসে রয় না
সকল দিনের সূর্য যেমন
উত্তাপ নয় সমান রে
তাইতো একেক জীবন নদীর
নীরব ধারা এমন রে।
সব তারারি জীবন ধারা
সমান সময় মাপেনা
তেমনি করে অনেক ফুলের
সুবাস বিলান চলে না।
সব যুগেরি স্বার্থকতা
নয়’ক সমান বলিলে-
একই জীবন সকল সময়
ব্যর্থ হয়না তলিলে।
সব চাঁদই কি আনতে পারে
সমান করে আনন্দ?
সবার কাছে একই ভুলে
হয়কি সমান দন্ড।
সব ফুলেরি জন্ম কেবল
দেবতাকে পূজা নয়
তেমনি করে অনেক জীবন
তমাসাতে হারিয়ে যায়
সব জলই কি মিটায় তিষ্টা
চাইলে করুণ সময়ে
অনেক পেয় পান করাতে
ব্যস্ত জীবন হরণে।
অগাস্ট, ২০০৬

২৬ শে মার্চ ।। আল ফারুক


২৬ শে মার্চ গভীর রাতে নিষুপ্ত মানুষের ‘পরে
ঝাপিয়ে পড়ে পোষা কুকুরের দল।
ক্ষুধার্ত শকুনের পাল ভেবেছিল মোরা সবে-
বাঙালী জাতিকে করে দিব দুর্বল
বাংলার নামটি মুছে দিব চিরতরে
আর মাংস চিবাব মনের উল্লাস ভরে।
বিপদ এসেছে; মহা বিপদ-
ঘুমন্ত পৃথিবী আচমকা কেঁপে ওঠে
দিকে দিকে আর্তনাদ
রাইফেল, কামানের নির্ঘোসে।
ভয়; চারিদিকে ভয়
ওরা কেড়ে নেয় শিশুর কান্না-হাসি
পড়ে থাকে শূন্য আলয়
লাশ পড়ে থাকে রাশি রাশি।
নয়নের জল ঝরে পরে পথে পথে
মায়ের দুলালী হারানো ব্যাথা
পিতা লুটিয়ে পরে মাটির তরে
ওঠে নাহি বলে কথা।
ওরা অত্যাচারী, দুর্বল মানুষকে করে খুন-
ওরা অপরাধী, ওরা জালিম, ওরা নির্মম।
২৫ মার্চ, ২০০৬

তুমি দেখবে বন্ধু আমায় ।। আল ফারুক


তুমি দেখবে বন্ধু আমায়!
অনুভূতি, অনুভবে নয়নের নিকটে-
দেখেছ হয়তো শতবার!
জাননি; কে আমি? আমি সেই!
তোমার নয়ন যারে খুঁজে খুঁজে চায়।
এসেছ আমারি দ্বারে
খুঁজে ফিরো বারে বারে
যে পথে ফিরেছি আমি
দু’নয়নে চাও।
সখা নেই, সখা নেই
না পাওয়ার বেদনায়
সঞ্চিত ব্যথা বুকে-
ফিরে ফিরে যাও।
পথ চাও ফিরে ফিরে
নিবে খুঁজে লোক ভিড়ে
দেখা তবু মিলে না যে
কোথা সে যে কোন কাজে
তোমারে দিয়েছে ফাঁকি?
জানা নাই।
আহত পাখির মত ব্যথিত কি তাই?
তুমি দেখবে বন্ধু আমায়।
আমি খেলি লুকোচুরি
দিব দেখা লাজে মরি
ভেবে ভেবে ভয়ে মরি
যদি ফিরে যাও।
মুখ যদি ফিরে নাও
ঘৃনা করে দূরে যাও
হারাবার ব্যাথা তাই আমারে ভাবায়।
তুমি দেখবে বন্ধু আমায়।
ঘুরি আমি বনে বনে
কাজ নেই, অকারনে-
সময়ের হিসেবে সন্ধ্যা ঘনায়;
তুমি দেখবে বন্ধু আমায়।
জুলাই, ২০০৫

সমাচার ।। আল ফারুক


হঠাৎ দেখা-
বহুদিন আগের পরিচয়
হয়নি কেবলি মৌখিক চেনা
হে বন্ধু তোমায়।
অনেক শুনেছি নাম-গুন
ভেবেছি কোন মাঝ রাতে
কখনো ঘুমের ঘোরে
স্বপ্নের মাঝে সেই গুঞ্জন।
কথা হয়নি কোন দিন; তবু
অন্তরে অন্তরে হয়েছে মিলন
হয়েছে বিবাদ-তর্ক কখনো
অজানা প্রকাশে কভু।
অচেনা পথের ধারে
হয়তো জানা; হয়তো অজানা
ভাবনার সেই মুখ খানি
হৃদয় ক্রোড়ে আসন কাড়ে।
জানা হয়নি সমাচার
হয়তো দেখেছি; হয়তো না
হয়তো অপরাধী হয়ে
পথ প্রান্তরে বারবার।
হৃদয়ের পিপাসা মিটাও আমার
মনের কথা সেও রেখ না বাঁকি
নিরালে বল হে সমাচার, লুকিয়ো না-
আমিও দিব না ফাঁকি।
জানা অজানা কথাগুলি
বহুদিন ধরে আছে জমা
জাননি আমায়, আমিও তোমায়
অনামিকা- প্রিয়তমা।
ফেব্র“য়ারি, ২০০৬

পণ ।। আল ফারুক


মানুষ হব, মানুষের মতই মানুষ-
মানুষ হবার সখ যে আমার।
মানুষ যে হতে চাই, মানবতা পেতে চাই
মানুষের মত হোক বিবেক আচার।
আমি নই সুখ পাখি, সুখী হতে চাইনে
আমি চাই নীরবতা, মানবতা ভাইরে
রাজা কি যে বাদশা কোনটার আশা নয়
লোভে কভু মিশে যাই, এই সদা হয় ভয়।
হব আমি মুক্ত, হব আরও ভক্ত
গুরুজনে গুরু হবে মোর।
হব আমি শান্ত, নহে কভু ভ্রান্ত
মন ভোলা নয় আর
নয়রে বিভক্ত।
রিক্ত বদন আর সিক্ত নয়ন যার
ব্যথিত ও পীড়াভুক জনে
স্বজন হোক মোর।
বিজাত কি বিধরন-
নয় তাতে ঘৃণা অবহেলা।
আমি না কি সেই দাস
প্রশ্ন নয় বিচারে
জনে জনে না বলি সে কথা-
আমি বলি সব কিছু আচারে।
ফেব্র“য়ারি, ২০০৬

চাষী ।। আল ফারুক

ওদের কভু গাল দিও না
আর বল না চাষা
ওরাই দেশের মানিক রতন
মোদের মনের আশা।
এই বাংলার রুপের তরী
যেথায় দেখ সারি সারি-
সব তরীতে ওরাই মাঝি
ওরাই মোদের ভাষা।
ওরা মোদের সুখের সখা
দেহের শক্তিবল
ওরাই হবে সংকটে শোন
ভরসারি আঁচল।
তবে কেন দেমাগ তোমার
গর্ব সর্বনাশী?
ওদের নিয়ে করবে কেন
ঠাট্টা মাখা হাসি।
ওদের দেখে শ্রদ্ধা কর
ভক্তি পদে পদে
ওদের মুখের মিষ্টি হাসি
আর যেন না কাঁদে।
জুন, ২০০৫

পরিচয় পত্র ।। আল ফারুক

প্রশ্ন জাগিল মনে-
কোন এক মূর্ত ক্ষণে
অন্তর অগোচরে
কে? এই আমি কে?
জানি না পরিচয় মোর
তবে কী দিক হারা, পথ ভোলা
যাত্রা পথের যাত্রী পরাচর।
জানা নাই, পথিকের যাত্রা কোথায় শেষ
সেও জানা নাই- কি লয়ে অভিলেষ
চলিছে দুখানি পদ
পথ খুঁজে খুঁজে
ঝরছে নয়নে লোনা জল
হৃদয় ব্যথিত, অবিচল-
নিরঙ্কুশ; ব্যথা লয়ে প্রাণে।
কি ছিল অর্পিত ভার?
সেও জানা নাই- জানে সে কোন মহাজনে।
হবে কি দন্ড বিধি তার
সেও জানে না ভোলা মনে।
চলছে অবিরাম, সে দিকে চায় মন
পথ চলা কবে শেষ?
মলিন চেহারা শুষ্ক ঠোঁট তার
এলোমেলো বির্বণ কেশ।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে জীবনের নিঃশেষে
পথ চলা রুদ্ধ প্রায়
মুসাফির ঘুরে ফিরে জীবন নীলাম্বরে
শেষে শুধু বলে হায় হায়।
শেষে করে তড়িঘড়ি
পথে হল বড় দেরি
কবে শেষ তবে ফেরা
ভাবে তাই মুসাফির।
মে, ২০০৫

স্বাধীনতা কেন ।। আল ফারুক

আবারো যদি রক্তে লিখব স্বাধীনতা
তবে কেন রক্ত ঢেলেছি?
শুকনো রাজ পথে
উত্তপ্ত দিন দুপুরে
এবং নিশীথ রাতে।
তবে কেন হারিয়েছি এত প্রাণ-
গড়েছি রক্তসাগর
লাল করেছি নদী
এবং সবুজ নগর।
আবারও যদি সংগ্রাম; তবে-
কি হল দূর্বল ব্যথিতের
কাঙাল, ভিখারী অনাহারী পথিকের।
উড়ন্ত পাখিদের উড়তে বারণ
প্রজাপতির ডানা মেলা
অনাবিল কোকিলের গাইতে বারণ
খুকুদের নাচা খেলা।
আবারো যদি রক্তে ভেজাব শার্ট
চির ঘুম ঘুমাবো পথে পথে।
আবারো যদি আহত শালিকের মত
গোপনে ফেরা ঘরে।
আবারো যদি অশ্র“ ঝরে
অনাকাঙ্খাখিত বেদনায়;
ফুটন্ত ফুল ঝড়ে যদি যায়
জীবনের সঙ্গী ছাড়ায়।
তবে লিখেছি কেন স্বাধীনতা?
লক্ষ প্রাণের বিনিময়-
কি সুখ ছিল, লুকানো তবে
স্বপ্নের স্বাধীনতায়।
মে, ২০০৫

ফিরে এসো হে বরেণ্য ।। আল ফারুক

ফিরে এসো তুমি হে বরেণ্য
মুক্ত প্রান্তে; বিরাট সমুদ্র তটে-
তোমাকে ডেকেছি প্রভাতে
এবং সন্ধ্যার যাত্রা ভাটে।
তোমায় প্রতিক্ষায় প্রতিক্ষিত-
আমি শতাব্দীর সন্ন্যাসী
অতিষ্ঠ জীবন, মৃত্যুর পথবাসী।
ডেকেছি কেবলি মুক্তি নহে-
মৃত্যঞ্জয়, মদদ হানিবার আশে।
শুধু সংগ্রাম, যুদ্ধ এবং লড়াই
পদপ্রান্তের শান্তিরে ভালবেসে।
এসো
তোমার প্রতিক্ষায় দাঁড়িয়ে-
ফিরে, এসো হে বরেণ্য।
দুভের্দ্য, দুর্লঙ্ঘনীয় প্রাচীর পেরিয়ে।
আবারো ডেকেছি
ফিরে এসো হে বরেন্য তুমি
সিন্ধুর লোনা জল ছাড়ি
চন্দ্রের বিকাশ রশ্মি ছড়ি
এসো মাজলুমের প্রার্থ বলে-
অত্যাচার, নির্যাতনের কুন্ড ঠেলে।
দাও ভুলি ভেদ-বিভেদ।
এসো হে বরেণ্য তোমার আশায়
আবার নতুনে যাত্রা হবে
ধরণীয় নব আত্মা দিবে
তবে হব আমি ধন্য
ফিরে এসো হে বরেণ্য।
মে, ২০০৫

দূরত্ব ।। আল ফারুক


বহু দূরত্ব এখন আমাদের
তুমি, আমি এবং আমরা-
সময়ের পরিধীয়।
দিগন্তের সীমাহীন পথে তুমি
আমি সময়ের সন্ধ্যায়।
আমরা অসীম গোলকের
বিপরীত প্রান্তে; একটা জ্যার।
পৃথিবীর উত্তর মেরু তুমি
আমি দক্ষিণ।
একটা ঝুলন্ত চুম্বকের দুটো প্রান্ত
ধর্মে অমিল।
আমার অর্ধায়ু যত
তুমি তত আলোক বর্ষ দূরে
সময়ে বিশাল প্রাচীর; বলয়
তোমাকে, আমাকে ঘিরে।
আমরা ভিন্ন ভিন্ন গ্রহ-
আলাদা কক্ষপথ;
অথবা আকাশের চাঁদ তুমি
আমি সামান্য পর্বত।
সাগরের ঘন নীল তুমি
অথবা সাত রঙা রংধনু।
আমি বর্ণহীন, কৃষ্ণকায়-
বড় শীর্ণ মোর তনু।
০৩ অক্টোবর, ২০১০

স্বাধীনতার সূর্য ।। আল ফারুক

যেদিন দেখিবে বাঙালী, তোমার কাঙালী হাল নাই আর
সেদিন বুঝিবে পেয়েছি সূর্য সোনালী স্বাধীনতার।
দেখিবে আরও নাই’ক ভিখারী, অনাহারী মুসাফির-
সেদিন হয়তো অদূরেই দেখিবে আসিতে ভীড়।
যেদিন তুমি বন্ধু-স্বজন, দরিদ্র-অনাথের-
পারবে তুমি দাঁড়াতে যেদিন পাশা-পাশি বিপদের
বিপদে আমার বিপাকী তুমি, অনাহারে অনাহারী
আপদেও তুমি পারিবে দিতে অশান্ত সাগর পাড়ি।
যেদিন রক্ত ঝড়বে তবুও সততার হবে জয়
সেদিন রক্ত ঝড়াতে সকলেই প্রস্তুত, নির্ভয়।
সেদিন কত দূর, কত দেরিতার, বলিতে পার কি তুমি?
আকাশের মত দেবতা যেদিন চুমিবে নীরবে ভূমি।
দেখিবে নয়না ঝরবে নয়নে অঝর ধারাতে জল
অসহায় তুমি তাই- করিবে ব্যথাতে ধরণী টলমল।
চাহিবেনা কেহ সুখ, বরিবে মহা দুঃখ, ব্যাথা পাবে তুমি তাই
তুমি তার, সে তোমার ভেদা-ভেদ কিছু নাই।
এমন একটি সূর্য আনিব ভাবিয়াছি তাই মনে
মমতার আলোকে পারিব বিলাতে ব্যথিত ও পীড়াভূক জনে।
নভেম্বর, ২০০৭।

বর্ষা এল ।। আল ফারুক


বর্ষা এল, বর্ষা এল
আজকে আবার বর্ষা এল
পল্লী পাড়ে নতুন করে
বাঁশের ঝাড়ে, পুকুর পাড়ে
খাল পেরিয়ে বিল পেরিয়ে
অনেক স্মৃতির স্মরণ করে।
বর্ষা এল, ভরসা পেল
পল্লী কিশোর দল
আজকে আর ভাসবে ভেলা
পেরুবে নদীর জল।
নতুন করে ভাসবে ভেলা
থৈ থৈ থৈ জলে,
হৈ চৈ চৈ করা-
ভর দুপুরের বেলা।
আবার জলে ঝাঁপা-ঝাঁপি
আবার জলে খেলা
জল দিঘিরে সাঁতার কেটে
ফিরতে সন্ধ্যা বেলা।
আজকে আবার বর্ষা এল
পল্লী পাড়ে
নতুন করে
দিঘির পাড়ে, নদীর বাঁকে
হাওয়ায় দুলে
পথ ভুলিয়ে।
আজকে আবার আকাশ ভরা
মেঘের মেলা মেঘের খেলা
ভর দুপুওে, সন্ধ্যা বেলা।
বর্ষা এল, বর্ষা এল
আজকে আবার বর্ষা এল।
জুন, ২০০৭

আযান ।। আল ফারুক

প্রভাত বেলায় এমন করে
কে ডাকিল হায়?
কাহার নামে এমন মধুর সুবাসটি এলায়!
কাহার নামে কান্না নামে
হৃদয় মাঝে লাগাম টেনে-
কাহার নামে বকুল ফোটে
প্রভাতী হাওয়ায়।
এটি একতারা নয়, দোতারা নয়-
এমন নামের সুর
যে নামেতে আঁধার রাতি
আলোয় হল ভোর।
এ নামটি যে কোথায় ছিল রাখা!
এ নামটিতে কিসের পরশ মাখা?
কোন কারিগর দিয়াছে এ সুর-
যাতে এতই আকুলতা!
এ নামটি যে কত আগের চেনা
জানতে গিয়েও হয়নি অত জানা।
এ নামটি যে কতই পুরাতন
তবুও সে নাম জানায় মোরে
নিত্য সে নতুন।
জুন, ২০০৭

Tuesday, September 6, 2016

সাহসী ছেলে ।। আল ফারুক

প্রভাত পাখির ডাক শুনে যার ঘুম ভাঙেনা-
অস্থিরতা, চঞ্চলতা মন কাড়ে না।
অলস যে জন সময় কাটায় ঘুমের বেগে
কথায় কাজে সবখানিতে যায় যে রেগে।
ঝড়ের হাওয়ায়, ঝাপটা দেওয়ায় ভয় পেয়ে যায়
বিজলী চমক, মেঘের ডাকে আঁচলে লুকায়।
”যুদ্ধ” শুনে রুদ্ধ বাকে অশ্র“ ফেলে
মৃত্যু এলে পালায় যে জন পাখনা মেলে।

অন্ধকারে জ্ঞান যে হারায়-
জোছনা রাতের আলোয় যারা গর্ব ছড়ায়।
সাগর জলের ঢেউ দেখে যার বুক ফেটে যায়
জোয়ার ভাটার গর্জনে যে গোপনে পালায়।
প্রেমের কথায় লাজুক যে জন, চোখটি বুজে-
যৌবনে যে হারায় গতি, মন না খুজে।
হবে না কভু এমন তুমি, কষ্ট যতই হোক
তুমি সদা সাহস বুকে জয় করে নাও শোক।
বলুক যে যা অল্প বেশী, শান্ত ছেলে তুমি
চেহারাটা বিশ্রী না হোক, তোমার ললাট চুমি।

এপ্রিল, ২০০৭

তোমার কি মনে পড়ে? ।। আল ফারুক


তোমার কি মনে পড়ে?
এইতো সেদিনের কথা-
আমি জানালার পাশে
তুমি পথ চল একা একা।
তোমার চোখ দুটো তখনো আমাকে খোঁজে
যখন তুমি পাশ কেটে চলে যাও
অথবা বন্ধ জানালা, শব্দহীন।
কত কাল জানি না এভাবে
আস-যাও কৌতুহলে,
আঁড় চোখে তাকিয়ে থাক; একটি জানালায়-
একটি মুখ পানে; অচেনা।
গোধূলীর পরে, আধো-আলো, আধো-আঁধারে-
লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা,
ব্যস্ত মানুষ, নীরব একা।
কিছু বলতে চেয়েও বলতে পার নি তারে
একটি কথাও চুপিসারে।
হঠাৎ অন্ধকারে ডাক এল যেন-
রাস্তার পাশে প্রথম দেখা
প্রথম কথা হল দুজনার
আমি ভাবিনি যেমনটি কখনো।
সন্ধ্যার স্বপ্ন, প্রথম আমার।
আমি এখনো বুঝি না আলো নাকি আলেয়া
এখনো দৃষ্টি মেলায়
এখনো স্বপ্ন দেখায়
হারিয়ে যায় কখনো কখনো;
কখনো তমানিশা।
শতাব্দি পরেও যেন এমন রবে
মানুষ রূপের মানবী
যাকে আলো অথবা আলেয়া
কোনটায় বল যাবে না।
তোমার কি মনে পড়ে?
তোমাদের দরজার সামনে
বৃষ্টিতে যখন গা ভিজে যায়
অথবা গোধূলীর আঁধারে তোমাদের রাস্তায়
পিছু পিছু এসে বহুদূর-
দুজনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
আমি কেন ভুলতে পারি না?
অথবা সেদিনের প্রার্থনার কথা
যা বলেছিলে, চাইতে
আমিও চেয়েছিলাম, যা আজো চাই।
আমি ফিরতে চাইনা, অথবা ফিরাতে
আজো পথ চেয়ে আছি;
থাকব। অনন্তকাল-
যতদিন সূর্য আর চাঁদের দেখা পাব
অথবা পারব চোখটি নাড়াতে।
আমি পারবনা তবু এমন স্মৃতি
মন থেকে কভু হারাতে।
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১০

তোমার কি মনে পড়ে? ।। আল ফারুক

তোমার কি মনে পড়ে?
এইতো সেদিনের কথা-
আমি জানালার পাশে
তুমি পথ চল একা একা।
তোমার চোখ দুটো তখনো আমাকে খোঁজে
যখন তুমি পাশ কেটে চলে যাও
অথবা বন্ধ জানালা, শব্দহীন।

কত কাল জানি না এভাবে
আস-যাও কৌতুহলে,
আঁড় চোখে তাকিয়ে থাক; একটি জানালায়-
একটি মুখ পানে; অচেনা।
গোধূলীর পরে, আধো-আলো, আধো-আঁধারে-
লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা,
ব্যস্ত মানুষ, নীরব একা।
কিছু বলতে চেয়েও বলতে পার নি তারে
একটি কথাও চুপিসারে।

হঠাৎ অন্ধকারে ডাক এল যেন-
রাস্তার পাশে প্রথম দেখা
প্রথম কথা হল দুজনার
আমি ভাবিনি যেমনটি কখনো।
সন্ধ্যার স্বপ্ন, প্রথম আমার।

আমি এখনো বুঝি না আলো নাকি আলেয়া
এখনো দৃষ্টি মেলায়
এখনো স্বপ্ন দেখায়
হারিয়ে যায় কখনো কখনো;
কখনো তমানিশা।
শতাব্দি পরেও যেন এমন রবে
মানুষ রূপের মানবী
যাকে আলো অথবা আলেয়া
কোনটায় বল যাবে না।

তোমার কি মনে পড়ে?
তোমাদের দরজার সামনে
বৃষ্টিতে যখন গা ভিজে যায়
অথবা গোধূলীর আঁধারে তোমাদের রাস্তায়
পিছু পিছু এসে বহুদূর-
দুজনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
আমি কেন ভুলতে পারি না?
অথবা সেদিনের প্রার্থনার কথা
যা বলেছিলে, চাইতে
আমিও চেয়েছিলাম, যা আজো চাই।
আমি ফিরতে চাইনা, অথবা ফিরাতে
আজো পথ চেয়ে আছি;
থাকব। অনন্তকাল-
যতদিন সূর্য আর চাঁদের দেখা পাব
অথবা পারব চোখটি নাড়াতে।
আমি পারবনা তবু এমন স্মৃতি
মন থেকে কভু হারাতে।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১০

সময়ের বিবর্তন ।। আল ফারুক

সময়টা এখন বড় দুঃসময় আমার-
আমি যা চাই, তাই হারায়।
হাত বাড়ালেই ফিরিয়ে নেয় মুখ দাতাগণ-
এটা তো সময়ের বিবর্তন।

আমি আগুন্তকের পথ চেয়ে থাকি
সময় ফুরিয়ে যায়, শেষ বেলায়-
আসে নাই কেহ; শূন্য অর্জন।
আমার পথ চেয়ে থাকা, আমার আশায় হতাশা
সমস্ত সঞ্চয় শেষে-আমি অনাথ
আমি নিরাশ্রয়, আমার সকল বর্জন-
করি অর্জন।

আমি দিগন্তের পথে দৃষ্টি হারিয়ে ফেলি-
হাহাকার করে নির্জীব মন
দুচোখে অশ্র“ ছলছল, টলমল-
অব্যক্ত কোন বেদনায়।
আমি হারিয়ে ফেলি আমায়-
আমি আমাকেই করি খুন।

আমার এখন বড় দুঃসময়
আমি স্বপ্ন দেখি দিনে রাতে-
ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন।
আমার শব্দহীন কন্ঠ; আর গলা শুকিয়ে যায়;
কেহ শোনে না আমার ডাক।
প্রভাতে আশায় আমি ছটফট করি-
জানি আবার ডাকবে পাখি
ভাঙ্গবে ঘুম।
আসবে সময় আবার, আসবে আরেক বিবর্তন
আমি ফিরে পাব আমার হারানো অর্জন।

০৬ অক্টোবর, ২০১০

আমায় এনে দাও ।। আল ফারুক

একটা সুন্দর পৃথিবী এনে দাও
যেখানে থাকব আমি, আমরা-
অসীমের সীমাহীন পথে হারিয়ে যাব
কোনদিন আর ফিরব না।

একটা দিগন্তের মাঠ পেরিয়ে অজানায়
কোন অচেনা, অদেখা নির্জনে-
যে পথে পড়েনি চরণধূলি
অথবা নাড়েনি শিশিরের বিন্দু কণা।

আমাকে বাঁচতে দাও, অনন্ত কাল-
পৃথিবীর জন্ম-মৃত্যু পর্যন্ত।
আমি দেখব সকল অদেখা
জানব কালের ঘটে চলা কাহিনী
আমি হাজার তারার মৃত্যু দেখব
হাজারটা শ্মশানের।

আমাকে একটা চাঁদ এনে দাও-
আমি দেখব আঁধারে গোপন ইতিহাস
পৃথিবীর সকল সৌন্দয্য;
সকল সমাচার, সকল গোপন কান্না-
করুণ মৃত্যু পর্বতের গুহায় আটকে পড়া হায়েনার।

আমাকে দাও ক্ষুধাহীন জীবন
অবিরাম পথ চলার দীপ্ত শক্তি
আর অফুরন্ত ইচ্ছা পূরণের সীমাহীন বল।
আর এনে দাও, আমার আঁধার; প্রিয়তমায়-
এতকিছুর মাঝে-আমি একাকি বাঁচতে চাই না।

০৫ অক্টোবর, ২০১০

তোমার সুদিন ।। আল ফারুক

আসবে যখন বিজয় তোমার
সকল দুঃখ শেষে
সবাই তোমায় করবে বরণ
অনেক ভালবেসে।

একটু আগের না চেনা মুখ
অজানা এক সুরে
তোমায় আপন, করবে বেজায়
আপন ঠেলে দূরে।

আসবে অনেক বিজয় মালা
জমবে তোমার প্রেমের পালা
নিত্য নতুন বেশে
সবাই তোমায় করবে বরণ
অনেক ভালবেসে।

অচেনা মুখ পড়বে মনে
অজানা সুখ আসবে ঘনে
টানবে কাছে অকারণে
আপন ঠেলে শেষে-
সবাই তোমায় করবে বরণ
অনেক ভালবেসে।

মার্চ, ২০০৭

প্রার্থনা ।। আল ফারুক

সকাল বেলার সোনালী রৌদ্র হাসে
মুক্তা ছড়ানো শিশির ঝরা ঘাসে।
পাখির ডাকে ভরাও মাটির ধরা
সুখের সে দ্বার খুলে
সারা রাতের ক্লান্তি ধুয়ে মুছে
সাজাও দেখি মাটির ধরা ফুলে।

পাখিরা ছুটে ছাড়িয়ে আপন বাসা
খুজে বেড়ায় নতুন দিনের আশা।
নতুন একটি স্বপ্ন নিয়ে বুকে
ক্লান্তি ব্যথা গোপনে রাখে লুকে।
চলছি কেবল আমিই আপন ভুলে-
পথ খুজে দাও আমায় তুমি প্রভু।
আমায় তুমি নাও না কাছে তুলে-
আমার হিয়ার শূন্য বাগান
সাজাও ফুলে ফুলে।

আমায় তুমি শান্ত কর-
পাগল মনের বাঁধন খুলে
আমার ভুলে, আমায় তুমি
নাও তুলে হে আপন কোলে।
আমায় তুমি শক্তি দিও
বিপদ কাছে এলে-
আমার হিয়ার শূন্য বাগান
সাজাও ফুলে ফুলে।

আমার মুখে ফুটাও হাসি
কষ্ট ব্যথা আড়াল করে,
পথের সাথীর দুঃখ বেজায়
আমায় যেন উতাল করে।
আমায় প্রেমের পরশ দিও
সবাই গেলে চলে-
আমার হিয়ার শূন্য বাগান
সাজাও ফুলে ফুলে।

আমায় তুমি মাফ করে দাও
আমার সকল ভুলে,
আমায় তুমি নাওনা প্রভূ
আলোর মাঝে তুলে।
আমায় আরো নাও এগিয়ে
আমায় তুমি দাও জাগিয়ে
মাফ করে দাও আমায় তুমি
আমার সকল ভুলে-
আমার হিয়ার শূন্য বাগান
সাজাও ফুলে ফুলে।


জুলাই, ২০০৫

প্রেম ।। আল ফারুক

প্রেম!
তুমি কি জানতে চাই আমি
তোমাকে আমি প্রশ্ন করি
একটি নয়-
শত শত
সাগরে জলের ফোঁটা যত
নদীতে ঢেউয়ের দোলন যত
আকাশে উজ্জ্বল তারা যত
আমি করব না এতে, প্রশ্ন জড়াতে
মস্তক অবনত।

তুমি প্রস্তুত হও
আমি প্রস্তুত, জানতে তোমায়-
পেরিয়ে এসেছি শৈশব, কৈশর;
আমি এক দুরন্ত যুবক।
আঠারোর কোঠায় ফেলেছি পা
এখন আমার যৌবনে ঢাকা গা।
এখন আমার নির্ভীক মন
রঙেতে রাঙানো দুই নয়ন
কাঁপে না গলা; সহজেই বলা
হয়ে যায় সব আবেদন।

আগের মত লাজুক তো আমি নই
অনেকটা ভাবুক, কিছুটা নির্ভয়
হৃদয়ে আমার বিবর্তনের ঘনঘটা
আচরণে এসেছে কিছুটা চঞলতা
কিছুটা আবেগ, কিছুটা ব্যাকুলতা
জানতে তোমায়।
আমার আশা একান্ত  গোপনে-
সকলের নিভৃতে
জোছনার আলোতে
জানব তোমায়।

অক্টোবর, ২০০৭

মাতৃভূমি ।। আল ফারুক

নীল আকাশের নিচে বাংলা শ্যামল
ষড়ঋতু তারি সবুজ অঙ্গে শাড়ীর আঁচল।

বিধাতার অকৃপণা দানে-
পেয়েছি বাংলা, সবুজ লহরী জীবন্ত গানে গানে।
এথায় পেয়েছি সু-মনের কিশোর সখা
নিত্যানন্দে ভোরের শিশির, দোয়েল দেখা।
সোনালী ফসল, সবুুজের মাঠ, অদূরেই কাঁশ কুল
আরো পেয়েছি শীতের সকালে ঝড়া বকুলের ফুল।
পাখিদের গান, সখীদের নাচ, সাথীদের কোলাহল
সবুজের দেশ, সুখের স্বর্গে ভাসে যেন; অবিকল।
রাতভর আরো চাঁদের আলো কখনো অন্ধকার
মেঘলা গগনে কখনো আবার বিজলী চমকাবার।

কখনো আষাঢ়ে বৃষ্টি নামে-
ফোঁটা ফোঁটা জল সুর দেয় গানে
সাড়া জাগে তাই, গাছের পাতায়, পাখিদের নীড়ে নীড়ে
বর্ষণ ভীড়ে ভেসে দেয় কখনো জল দিঘিরে।
ভর দুপুরে কখনো আবার রৌদ্র সাড়া
দেখবে তখনি সবুজ বাংলার নিঝুম পাড়া
আরও দেখা যায় বৈকাল শেষে সন্ধ্যার আগমনে
নিভু নিভু প্রদীপ জ্বলবে যেন নিঝুম বনে।
এই নিয়ে তাই, এইখানে ভাই কাটছে আমার বেশ
এইতো আমার মাতৃভূমি, সোনার বাংলাদেশ।


মে, ২০০৫

বাংলাদেশ ।। আল ফারুক

নিত্য তুমি নতুন হে বাংলাদেশ।
তোমাতে প্রতিদিন সবুজের আঁচর-
শিশিরের আর্দ্র মমতা
সোনালী রৌদ্র
দিগন্ত মাঠ, পড়ন্ত বেলায়-
উজ্জ্বল স্বর্ণলতা।

কী সুন্দর! নির্মল, ললিতের মায়া-
লাবন্য ভরা তুমি।

তুমি অপূর্ব, অনাবিল শান্তি-
তোমার হিয়াতে মিলায়ে
উত্তপ্ত দিনে শীতল ছায়া-
এ যেন আমারি মায়ের
অতুলনীয় চিরন্তন মায়া।
সোনালী ফসলের সমারোহ!
সে তো তোমারি বুকে-
কত জনমের পরিচিত তুমি;
উড়ন্ত আঁচলের চঞ্চল খেলা-
শুধু কী তাই?
গোপন প্রেমের নিত্য লুকোচুরি
মুক্তা ঝড়া হাসির ফাঁকে ফাঁকে
কৃষকের মন কাড়া-
মায়া মাখা স্বর্গের øিগ্ধ পরশ
উদাসীর মন কাড়া।
চিরমমতা, অনিঃশেষ।
সে কি অকলঙ্ক প্রনয় তোমার!
তুমি চির যৌবনা, চির প্রণয়ী-
হে বাংলাদেশ।

মার্চ, ২০০৭

নিষ্ফল আরতি ।। আল ফারুক

আমি অরাতির কাছে আরতি করেছি
শ্রদ্ধা নিবেদন।
আমি প্রেমহীন মনে যেচেছি ভিক্ষা
দানিয়াছি মম মন।
আমি অথৈ সাগরে ডুব দিয়ে আজ
বাঁচিতে পেতেছি হাত-
অগ্নিদগ্ধ কাষ্ঠ করেছি
হৃদয়ে স্থান-পাত।
ভুল করে আজ বিপথে আমার
হয়েছে অনেক চলা;
যাহারে বলেছি মন খুলে সব
বিফল হয়েছে বলা।

আজ বলি তাই বিদায় বেলায়
মৃত্যু জড়ায়ে বুকে-
কষ্ট-ব্যাথা মুছে ফেলে মম
অশ্রু নীরবে লুকে।
ধিক্কার নাহি, ধিক্কার আজিকা
করিবনা তব আমি;
উন্নত হও, বিস্মৃত হও
 বিকশিত হও তুমি।

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১০

Monday, September 5, 2016

মাটির মানুষ ।। আল ফারুক

মাটি, মাটির মানুষ-
চির অভেদ্য তুমি
চির রহস্যময়।
রং ছড়ানো তোমার চোখে-
নিত্য নতুনের হাতছানি
নতুন রহস্যের কানাকানি
নতুনের দুর্বার ডাক; তুমি-
চির অজয়।
দুর্ভেদ্য তোমার মন-
তোমার অহংকার।
তুমি আলেয়া, মরীচিকা
তুমি মানুষ? অনামিকা!
সৃষ্টির মহা বিস্ময়-
চির ভয়।
তোমার দৃষ্টি প্রখর
ভালবাসা, ঘৃণা আর আক্রোশের-
চির উৎস তুমি।
মৃত্যুকে পরোয়া নাই-
শুধু তোমায়।
তুমি শান্ত, অশান্ত-
মোহ আর বিচ্ছেদের চির উৎস,
রাক্ষসী অথবা প্রলয় তুমি।
ধ্বংস আর সৃষ্টির বাহক-
পৃথিবী কর লয়।
চির বিস্ময়!
অজ্ঞাত তোমার ভাবনা, চেতনা-
ভিতরটা বড় ফাঁদ।
তুমি স্বপ্ন-লোকের অজানা পৃথিবী
বিস্ময়ে বাঁধা বাঁধ।
শেষ নেই কভু তোমাকে জানার-
পরিধি পরিসীমায়।
তুমি অজ্ঞাত; চির পরিচিত তবু-
অজানা রহস্যময়।
অজ্ঞাত তুমি, নিজেই জান না
তোমাকে একটি বার;
কখনো পেরেছ বাঁধতে তোমার-
আবেদন, আবদার!!
আপন কে তুমি নিজেই করেছ
শত শতবার ভয়;
কখনোই পারোনি নিজেকে করতে
পুরোটায় কভু জয়।
বিস্ময়, চির বিস্ময় তুমি
অভেদ্য, দুর্জয়।
অগাধ পৃথিবীর অসীম তুমি-
চির রহম্যময়।
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১০ ।। মাটির মানুষ - Matir Manus